সাধারণত কোনো দেশ বিনা স্বার্থে নিজেদের ক্ষতি করে অপর একটি দেশকে সাহায্য করে না। এই ২০১৯ সালে দাঁড়িয়েও ভারত একটা গরিব দেশ, ১৯৭১ সালে অবস্থা আরও খারাপ ছিল। তাই নিজের কোনো স্বার্থ বা লাভ ছাড়াই নিজের ক্ষতি করে অন্যকে সাহায্য করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। বন্ধুত্ব একটি মানবিক গুণ যেটি দুই বা ততোধিক মানুষের মধ্যে দেখা যায়। দুটি দেশ রাজনৈতিক ভাবে কখনো 'বন্ধু' হতে পারে না, তাদের মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা আসলে স্বার্থের সম্পর্ক।
তবে 'ভারত' মানে শুধুমাত্র ভারত সরকার, ভারতীয় ভূখণ্ডই নয়, 'ভারত' বলতে ভারতের জনগণকেও বোঝায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতে, মূলত পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেওয়া পূর্ব পাকিস্তানি শরণার্থীদেরকে স্থানীয় জনতা অনেক সহয়তা করেছিল। এই সহয়তার কারণ ছিল মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
১.শরণার্থী সমস্যা:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্থানীয় জনতার একটা বড়ো অংশ প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় নেয় পার্শ্ববর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতে যাদের অধিকাংশই আসে পশ্চিমবঙ্গে।
১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত শরণার্থীর সংখ্যা ৯৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩০৫ জনে এসে দাঁড়ায়। ত্রিপুরায় ১৪ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নেয়, যা গোটা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার সমান ছিল।
শরণার্থী শিবিরগুলোতে ছিল খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধপত্র, কলেরা মহামারি ইত্যাদি সমস্যার ব্যাপকতা। শরণার্থী শিবিরগুলো পূর্ণ হওয়ায় অন্যরা খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায়, ফুটপাতে ও রেলস্টেশনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। সন্তানদের চরম ক্ষতি স্বীকার করেও অভিভাবকেরা শরণার্থীদের ঠাঁইহীন করতে চাননি।
পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত শহরের তখনকার জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২১ হাজার। কিন্তু ওই শহর ও তার আশপাশে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া হয়।
বিদেশ থেকে শরণার্থীদের জন্য যে সকল সাহায্য এসেছিল তা ছিল অপ্রতুল। এ কারণে ভারত তার নিজস্ব কোষাগার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ শরণার্থীদের জন্য ব্যয় করে। এ জন্য ভারতীয় জনগণের ওপর ১৯৭১-৭২ সালে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়।
পাকিস্তান তার বেসামরিক নাগরিকদের ভারতে ঠেলে দিয়ে ভারতের অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। ভারত এই ‘সিভিল আগ্রাসন’-এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রতি-আক্রমণের হুমকি দেয়, আন্তর্জাতিক আইনে যাকে বলে আত্মরক্ষার্থে প্রতি-আক্রমণ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারত সাহায্য করেছিল নিজের স্বার্থে আর সেই স্বার্থ গুলির একটি ছিল ভারতের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া শরণার্থী সমস্যার সমাধান করা। ভারত মূলত শরণার্থীদের কারণেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে।
২.পাকিস্তানকে দুর্বল করে দেওয়া:
শরণার্থী সমস্যা ছাড়াও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে ভারতের যদি আর কোনো স্বার্থ জড়িত থেকে থাকে, তা হলো আজন্ম শত্রু পাকিস্তানকে দু টুকরো করে দুর্বল করে দেয়া।
পাকিস্তান ভেঙে গঠিত হওয়া বাংলাদেশ একটি বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্র। ফলে বাংলাদেশের দিক থেকে ভারতে সামরিক আগ্রাসনের কোনো সম্ভাবনা নেই। ভারতকে পশ্চিম সীমান্তের মতো পূর্ব সীমান্তেও অধিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে না। তই পাকিস্তান ভাঙার কারণে নিরাপত্তার দিক দিয়ে ভারত অনেক লাভবান হয়েছে।
Source:রিয়াজ হক (Reyaz Haque)fron quora.com

0 comments:
Post a Comment